১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ | শনিবার | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১

বিস্তারিত সংবাদ

হংসিকার শিল্পি হিসেবে বেড়ে ওঠার গল্প

সর্বশেষ আপডেট ডিসেম্বর ২৯, ২০২০ ইং

আহসান হাবীব,আমারজমিন:
বিনোদন দুনিয়ায় পা তার সেই শৈশবে। এরপর তিনি কৈশোর কাটিয়ে তারুণ্যেও পৌঁছলেন অভিনয় করতে করতেই। সময় বয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছোটবেলার সারল্যের সঙ্গে জড়িয়েছেন বিতর্কেও। কিন্তু হংসিকা মোটয়ানী বলিউডের হাতে গোনা কয়েক জন শিশুশিল্পীর মধ্যে একজন, যিনি পরবর্তী কালেও সফল নায়িকা হতে পেরেছেন।

জানা যায়, মুম্বইয়ের এক সিন্ধি পরিবারে হংসিকার জন্ম ১৯৯১ সালের ৯ অগস্ট। তার বাবা প্রদীপ মোটয়ানী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মা মোনা চিকিৎসক। শোনা যায়, মোনা প্রায়ই ক্লিনিকে নিয়ে যেতেন হংসিকাকে। আর সেই ঘটনাই অনুঘটক ছিল হংসিকার অভিনয়জীবনের। তার ত্বক বিশেষজ্ঞ মা মোনার কাছে প্রায়ই পরামর্শের জন্য আসতেন বলিউডের নায়িকারা। ত্বক এবং রূপচর্চা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে তারা মোনার দ্বারস্থ হতেন। জানা যায়, একবার মোনার কাছে এসেছিলেন বলিউড তারকা জুহি চাওলা। সে সময় মায়ের কাছেই ছিলেন হংসিকা। তাকে দেখে জুহি বলেছিলেন, হংসিকার উচিত টিভিতে অভিনয় করা।

এরপর সত্যি সত্যিই টিভিতে হংসিকাকে দেখা যায়। তাকে টেলিভিশনে প্রথম সুযোগ দেন অরুণা ইরানি। ওই সময় তিনি একটি ধারাবাহিক ‘দেশ মেঁ নিকলা হোগা চাঁদ’ পরিচালনা করছিলেন। সেই ধারাবাহিকে সুযোগ পান হংসিকা। সেটাই তার প্রথম কাজ টেলিভিশনে।এর পর বেশ কিছু ধারাবাহিকে অভিনয় করেন হংসিকা। ‘সোনপরী’, ‘শকালাকা বুম বুম’, ‘কিঁউকি সাস ভি কভি বহু থি’, ‘করিশ্মা কা করিশ্মা’ সহ বহু ধারাবাহিকে তার অভিনয় মন কেড়েছিল তখনকার টিভি দর্শকদের।

জানা যায়, টেলিভিশন থেকেই সুযোগ আসে তার বড় পর্দায় অভিনয়ের। ২০০৩ সালে হংসিকা প্রথম ‘হাওয়া’ ছবিতে অভিনয় করেন। ওই বছরই তিনি সুযোগ পান ব্লকবাস্টার ছবি ‘কোই মিল গ্যয়া’য়। ওই ছবিতে অভিনয় করার সূত্রে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথমসারির শিশুশিল্পী হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে হংসিকার।

এর পর তিনি ‘জাগো’, ‘আবরা কা ডাবরা’, ‘হম কৌন হ্যায়’ ছবিতেও অভিনয় করেন শিশুশিল্পী হিসেবে। ওই সময়ে তার বন্ধুরা পড়াশোনা আর খেলাধুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আর তখনই হংসিকার জীবনে পৌঁছে গিয়েছিল তারকাজীবনের আলো। এমনও হয়েছে, নিজের স্কুলেই বিশেষ অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নিমন্ত্রণ মিলত তার।

যদিও হংসিকার সেলিব্রেটি জীবনের নেপথ্যে তার মায়ের অবদান ছিল অনেকটাই। ২০০৪ সালে কিছুটা থমকে যায় তার ক্যারিয়ার। দুঃখজনক হলেও ওই বছর সেপারেশন হয়ে যায় তার বাবা – মায়ের। এর পর ৩ বছর অভিনয় থেকে দূরে থাকেন হংসিকা। তখন তিনি মুম্বইয়ে মায়ের সঙ্গেই ছিলেন।

বিরতির পরে হংসিকার বলিউডে প্রত্যাবর্তন ২০০৭ এ। ওই বার তার সকলকে চমকে দেওয়ার পালা। ১৬ বছরের হংসিকাকে দেখা গেল নায়িকার ভূমিকায় ৩৪ বছর বয়সি হিমেশ রেশমিয়ার বিপরীতে, ‘আপ কা সুরুর’ ছবিতে। তখন মাত্র তিন বছরে হংসিকার চেহারার বিপুল পরিবর্তন চোখে পড়েছিল দর্শকদের। আর তাই গুঞ্জন ওঠে, নায়িকাসুলভ চেহারা তৈরি করার জন্য হরমোনাল ইঞ্জেকশন নিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, এই বিষয়ে তাকে তার চিকিৎসক মা নাকি সাহায্য করেছিলেন।

হংসিকার বেড়ে ওঠার গল্পগুঞ্জন রয়েছে – শুধু ইঞ্জেকশনই নয়, আকর্ষণীয় ফিগার পাওয়ার জন্য তিনি বিশেষ বিশেষ অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন। তবে হংসিকা বা তার মা মোনা এই প্রসঙ্গে কোনওদিন মুখ খোলেননি।

‘আপ কা সুরুর’ এর পাশাপাশি ২০০৭-এ নায়িকা হংসিকা বাজিমাত করেন ‘দেশমুদুরু’ ছবিতেও। পুরী জগন্নাথ পরিচালিত এই ছবিতে তার নায়ক ছিলেন অল্লু অর্জুন। বক্সঅফিসে সুপারহিট এই ছবিতে হংসিকার অভিনয় প্রশংসিত হয় বলে জানা যায়।

এরপর ক্রমেই দক্ষিণ ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে হংসিকা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে অন্যদিকে বলিউডে তার গ্রহণযোগ্যতা অধরাই থেকে যায়। কারণ, সেখানে তার পরিচয় আটকে থাকে শিশুশিল্পী হিসেবেই।

জানা যায়, নায়িকা হিসেবে নিজেকে জনপ্রিয় করার জন্য হংসিকা বহু আশা নিয়ে অভিনয় করেছিলেন ‘মানি হ্যায় তো হানি হ্যায়’ ছবিতে। কিন্তু তবুও তার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়।

জানা যায়, এই ছবিতে কামব্যাক করেছিলেন গোবিন্দ। কিন্তু গোবিন্দ – হংসিকা জুটি খারিজ করে দেন দর্শকরা। বয়সে ৩০ বছরের বড় গোবিন্দর সঙ্গে হংসিকাকে একেবারেই মেনে নেননি বলিউডি ছবির দর্শকরা।

এই ছবির পরে বলিউড নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন হংসিকা। তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন শিশুশিল্পী হিসেবে মেনে নিলেও তাকে নায়িকার জায়গায় দেখতে নারাজ বলিউড। অন্যদিকে দক্ষিণে কিন্তু অন্য ছবি। তামিল ও তেলুগু ছবিতে সুপারস্টার হয়ে উঠলেন তিনি। ১৮ বছর বয়সেই তার পারিশ্রমিক ছাড়িয়ে যায় কোটির অঙ্ক।

জনপ্রিয়তার হাত ধরেই এল বিতর্ক। দক্ষিণের একাধিক নায়কের সঙ্গে হংসিকার প্রেমের সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন শোনা যেতে লাগলো তখন। তার মধ্যে নায়ক সিলাম্বারাসন বা সিম্বুর সঙ্গে সম্পর্কের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছিলেন এই নায়িকা। বেশ কিছু জায়গায় একসঙ্গে দেখা যেতো দু’জনকে।

কিন্তু কিছু বছরের মধ্যেই ভেঙে যায় এই সম্পর্ক। ব্রেক আপ নিয়ে হংসিকা মুখ না খুললেও সিম্বুর বাবা জানান, সিম্বু চেয়েছিলেন বিয়ের পরে হংসিকা অভিনয় ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এই শর্তে হংসিকা রাজি ছিলেন না।

এর পরও অন্য নায়কের সঙ্গে জড়িয়ে শোনা গিয়েছে হংসিকার নাম। তার দাবি ছিল, যে কোনও নায়কের সঙ্গে অভিনয় করলেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়ে যায়।

দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে খ্যাতির মধ্যগগনে থাকা হংসিকার কাছে এবার অফার আসে বলিউড থেকে। কিন্তু বিন্ধ্যু পর্বতের ও পার থেকে হংসিকা আর আরবসাগরের তীরে ফিরতে রাজি ছিলেন না। অতীতের সমালোচনা তার মনে ছিল। তিনি এ বার নাকচ করলেন বলিউডি অফার।

জানা যায়, দক্ষিণে হংসিকা এতটাই জনপ্রিয়, অনুরাগীরা মাদুরাইয়ে তার নামে মন্দিরও তৈরি করেছেন। ফলে সেই খ্যাতি ছেড়ে তিনি আর বলিউডে ফিরে আসতে চাননি। একবার ছুটি কাটাতে তিনি গিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক। সেখানে বিকিনি ও অন্য স্বল্প পোশাকে হট লুকের ছবি তুলেন তিনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *