১১ই মাঘ, ১৪২৭ | সোমবার | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১

বিস্তারিত সংবাদ

যৌতুক না দেওয়ায় স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে গৃহবধূর আত্নহত্যা- থানায় মামলা

সর্বশেষ আপডেট নভেম্বর ২২, ২০২০ ইং

আমারজমিন নিউজ ডেস্ক :
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় যৌতুকের বলি হলো এক গৃহবধূ। স্বামীকে এপাচি মোটর সাইকেল না দেওয়ায় অমানবিক নির্যাতন করা হতো এই গৃহবধূকে। এ ঘটনায় স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে শনিবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে ওই গৃহবধূ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
এদিকে সাটুরিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত গৃহবধূ আগতাড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্যেণির ছাত্রী ছিল। আর ছেলে রাজু আহম্মেদ এবার এসএসসি পাশ করেছে। পুরো বিয়ে ছিল বাল্য বিয়ে।
জানা গেছে, সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়নের দক্ষিন রৌহা গ্রামের আঃ করিমের ছেলে মোঃ রাজু আহম্মেদ নাগরপুরের সাক্ষীপাড়ার মোঃ পিয়ার আলীর মেয়ে রুবি আক্তারকে ৬ মাস আগে বিয়ে করে। বিয়ের সময় তাদের চাহিদা মতো যৌতুক দেওয়া হয়। এরপর বিয়ের দুই মাস যেতে না যেতে একটি এপাচি মোটর সাইকেল যৌতুক চায়। রুবির বাবা মোটর সাইকেল দিতে অস্বীকার করলে গৃহবধূ রুবি উপর চালাতো অমানবিক নির্যাতন। ওই গৃহবধূ স্বামী ও শাশুড়ির অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামীর বাড়িতে নিজের ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যার পথ বেঁেছ নেয়। এঘটনায় সাটুরিয়া থানায় একটি হত্যা প্ররোচনা মামলা হয়েছে।

গৃহবধূর মা শাহানাজ বেগম জানায়, ছয় মাস আগে রাজুর সাথে আমার মেয়ের নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর থেকে জামাই একটি এপাচি মোটর সাইকেল দাবী করে। আমরা মোটর সাইকেল দিতে অস্বীকার করলে ছয় মাসের মধ্যে আমার মেয়েকে আটকিয়ে রেখে মেয়ের শাশুড়ি পারুল বেগম ও জামাই রাজু মেয়ের উপর নির্যাতন করত। মেয়ে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের কথা আমাদের বলত। আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করতে দিত না জামাই। অন্যের বাড়ি গিয়ে চুরি করে আমাদের সাথে নির্যাতনের ঘটনা বলত। স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্নহত্যার পথ বেঁছে নেয় বলে জানায়।

সাটুরিয়া থানার ওসি মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, গৃহবধূর মা শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে জামাই রাজু ও শাশুড়ি পারুল বেগমের নামে একটি হত্যা প্ররোচনা মামলা করেছে। নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *