১১ই মাঘ, ১৪২৭ | সোমবার | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১

বিস্তারিত সংবাদ

খুন এবং অপহরণ যার নেশা

সর্বশেষ আপডেট আগস্ট ১৬, ২০২০ ইং

আহসান হাবীব, সাউথ আফ্রিকা থেকে :

সাউথ আফ্রিকায় গত জুলাই মাসের ২৭ তারিখ ব্লুমফন্টেইনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে খুন হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা সজল খাঁন খুনের মূল নায়ক ছিলো সোহাগ। সে গতকাল অপহরণের অভিযোগ পুলিশের হাতে আটক হয়।

দোকান মালিকের সাথে সজলের ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকলেও সোহাগের বেশ কিছু অপকর্মের সাক্ষী ছিলো নিহত সজল খাঁন।তাই সোহাগ গত তিন সাপ্তাহ আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে এসে সজল খাঁনকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে খুন করে।জেল থেকে বের হওয়ার পর সজল সহ মোট দুই বাংলাদেশীকে খুন করে সোহাগ।সোহাগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশীকে নির্যাতন,খুন,অপহরণ এবং বাংলাদেশীদের দোকানে কৃষাঙ্গ দিয়ে ডাকাতি করোনা সহ দোকান জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল শফিক নামের বাংলাদেশী নাগরিককে অপহরণের অভিযোগে পুলিশের হাতে সোহাগ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসে সোহাগের অনেক ভয়ংকর তথ্য।
সোহাগ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বাসিন্দা এবং ব্লুমফন্টেইনের বাংলাদেশী খুনি সোলায়মানের আপন ভাগিনা। ২০০৪ সালে সোলায়মান তার ভাগিনা সোহাগকে জীবন জীবিকার তাগিদে সাউথ আফ্রিকা নিয়ে আসে।এখানে আসার পর মামা সোলায়মানের অপকর্ম দেখতে দেখতে সোহাগ ও ভয়ংকর হয়ে উঠে।একসময় সোহাগ নিজেও জড়িয়ে পড়ে চুরি,ডাকাতি,খুন ও অপহরণ সহ নানা অপকর্মে।

সর্বশেষ সোহাগ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফ্রী স্টেইট প্রদেশের ভেলকম থেকে জনৈক বাংলাদেশী নাগরিককে অপহরণ করে ব্লুমফন্টেইন আসার পথে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৮ মাস কারাগারে ছিলেন।গত জুলাই মাসে ঐ অপহরণ মামলায় জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসে সজল খাঁন সহ দুই বাংলাদেশীকে খুন করে। সর্বশেষ চলতি মাসের ২ আগষ্ট শফিকুল ইসলাম নামে একজন বাংলাদেশীকে অপহরণ করে।দীর্ঘ ১৩ দিন শফিকুল ইসলামকে স্প্রিং ফন্টেইন নামে একটি লোকেশনে আটকিয়ে রেখে ২ মিলিয়ন রেন্ড মুক্তিপণ দাবি করে।

পরে পুলিশের যৌথ বাহিনীর সহযোগিতায় সোহাগ সহ দুই কৃষাঙ্গকে গতকাল শনিবার আটক এবং অপহৃত শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে।
আগামীকাল সোমবার সোহাগ সহ আটক ২ কৃষাঙ্গকে আদালতে হাজির করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *