৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ | বুধবার | ১৯শে মে, ২০২১

বিস্তারিত সংবাদ

আল্লাহ এই গজব থেইকা কবে রেহাই দেবে

সর্বশেষ আপডেট এপ্রিল ১১, ২০২১ ইং

আল্লাহ এই গজব থেইকা কবে রেহাই দেব

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে কি আইলো আল্লাহই ভালো যানে। গতবছর থেকে এই করোনা করোনা করে জীবনটাই শেষ হইয়া যাচ্ছে। এই মরার ভাইরাস কবে শেষ হইবে কইতে পারেন? এই ভাইরাসের জন্য পুরা সংসারটাই শেষ হইয়া জাইতাসে। আল্লাহ এই গজব থেইকা কবে রেহাই দেবে জানিনা এমনভাবেই দু:খ ভরা মন নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন আমেনা বেগম।

আমেনা বেগম যাবেন বাগেরহাট। তাই সকালে গাজীপুর থেকে রওনা দিয়ে গাবতলি বাস টার্মিনাল এসেছেন। আগে থেকেই জানতেন বাস চলছেনা। তারপরেও বাড়ি যাবেন কারন ১৪ তারিখ থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হবে৷

রাজধানীর গাবতলী বাস কাউন্টারের ঢোকার গেটে ব্যাগ ও বাচ্চা নিয়ে দাড়িয়ে রয়েছেন আমেনা বেগম। কথা বলতে গেলে তিনি  বলেন, সকাল ১০ টার দিকে গাবতলীতে এসেছি। বাস চলছেনা সেটা জানি কিন্তু বাড়ি যেতেই হবে। তাই অপেক্ষা করছি যদি কোন ট্রাক বা পিকাপে করে বাড়ি যাওয়া যায়।

দু:খ ও হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, গতবছর থেকে এই করোনার সমস্যা শুরু হয়েছে। আমার সামি একটি হোটেলে কাজ করতো। করোনার কারনে হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে। গতবছর ও এই সময়ে লকডাউন ছিলো তখনো হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি চলে যেতে হয়েছিলো। তখন কিছুটা জমানো টাকা থাকলেও এইবার কোন টাকাই নেই। কিভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছিনা। এদিকে গাজীপুরের বাসায় ভাড়া জমে গেছে। সেই বাসা ভাড়াও দিতে পারছিনা। তাই বাধ্য হয়ে বাড়িওয়ালাকে অনুরোধ করে বলেছি ভাড়া যেভাবেই হোক পাঠিয়ে দেবো। তিনি রাজি হলে বাসা ছেড়ে এখন বাড়ি চলে যাচ্ছি।

তিনি কান্নাসরে আরো বলেন, করোনায় আমার সংসারটাই তছনছ করে দিয়েছে। ছেলেটার মুখের দিকে তাকাতে পারছিনা যানেন। গতবছর নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারিনি৷ এইবছরও নতুন একটা জামাও দিতে পারবোনা বলেই মনে হচ্ছে। দেখি বাড়ি গিয়ে কিছু একটা করতে পারি কিনা। দরকার হলে মানুষের বাসায় কাজ করবো। পেটতো চালাতে হবে।

এদিকে সকাল থেকেই রাজধানীতে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীদের ভীড়। কঠোর লকডাউনের কারনে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন এই লকডাউন ঈদের আগে শেষ হবেনা। তাই আগেবাগেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন।

কথা হয় রাজধানীর চকবাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ১৪ তারিখ থেকে নতুন করে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকবে। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ঢাকা থেকেতো কিছু করার নেই। এই লকডাউন মনে হচ্ছে ঈদ পর্যন্ত চলবে। আর যদি এর আগে লকডাউন শেষ হয় তাহলে নাহয় আবার চলে আসবো।

গাবতলীর আমিনবাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর সিটি পরিবহনে করে হাজার হাজার যাত্রী এসে এখানে ভীড় জমাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রাইভেট কারে কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিয়ে আরিচা যাচ্ছেন। আবার অনেকেই অপেক্ষা করছেন পিকাপের জন্য। কারন মাঝে মধ্যেই এই এলাকা থেকে পন্যবাহী পিকাপ এসে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *